প্রকাশিত: Wed, Jun 14, 2023 9:04 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 4:45 AM

ভ্যাটিকান সিটির মানব সৌভ্রাত্র সভায় ড. ইউনূসের শান্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও থি জিরো ধারণা গৃহীত

মাজহারুল মিচেল: নোবেলবিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রস্তাবিত শান্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়টি পৃথিবীর সকল দেশেই প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে ভ্যাটিকান সিটিতে অনুষ্ঠিত মানব সৌভ্রাত্র বিষয়ক সভায় যান ড. ইউনূস। তিনি অন্য নোবেলবিজয়ীদের সঙ্গে নিয়ে একটি মানব সৗভ্রাত্র বিষয়ক ঘোষণা প্রস্তুত করেন। ঘোষণাপত্র চূড়ান্তকরণের সময় তিনি এ সংক্রান্ত কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১০ই জুন  রোমের সেইন্ট পিটার্স স্কোয়ারে প্রফেসর ইউনূস এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী নাদিয়া মুরাদ যৌথভাবে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। পোপ ফ্রান্সিস এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রফেসর ইউনূস কর্তৃক পঠিত এই ঘোষণাপত্রটি তার নিকট থেকে গ্রহণ করার কথা ছিল। অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।  ভ্যাটিকানের সেক্রেটারী অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন পোপের পক্ষে ঘোষণাপত্রটি গ্রহণ করেন। 

ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ মঙ্গলবার জানান, মানব সৌভ্রাত্রের এই ঘোষণায় প্রফেসর ইউনূসের ‘তিন শূন্য’র পৃথিবী অর্থাৎ শূন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ও শূন্য বেকারত্বের পৃথিবী প্রতিষ্ঠার রূপকল্পটি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।

ঘোষণাপত্রে প্রকৃতির সাথে শান্তি স্থাপনে পরিবেশগত সৌভ্রাত্র গড়ে তোলা, সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব পালন এবং টেকসই জীবনপ্রণালী প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান হয়। বিশেষভাবে জোর দেয়া হয় সকল মানুষের সমানভাবে এগিয়ে যেতে অধিকতর সামাজিক সৌভ্রাত্র, সকলের জন্য মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার প্রসার, মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও সুবিচার, আতিথেয়তা, সংহতি ও সহযোগিতা, সকলের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে টেকসই কৃষি, একটি যথার্থ প্রতিবেশগত উত্তরণ, এবং একটি সামাজিক সংহতি অর্থনীতির উপর। এই সৌভ্রাত্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি মহত্তর সমাজ ব্যবস্থা যা পৃথিবীতে স্বাধীনতা ও সাম্য ত্বরান্বিত করবে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ীদের মধ্যে মারিয়া রেসা, কোস্টারিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অস্কার আরিয়াস, কলম্বিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সান্তোস, লেইমা বোয়ি, তাওয়াক্কুল কারমান, ডেনিস মুকওয়েজ ও শিরিন এবাদি এবং জাতি সংঘ উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশনার, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন নোবেল জয়ী সংস্থা এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন ও চূড়ান্তকরণের কাজে জড়িত ছিলেন। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব